প্রতিবাদের গল্প: সোনম ওয়াংচুকের কাহিনী

সোনম ওয়াংচুক আদতে কে?

জম্মু কাশ্মীর রাজ্যের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ্, (দল হিসেবে প্রথমে আবদুল্লাহ্’দের ন্যাশনাল কনফারেন্স, পরে কংগ্রেস) বিধায়ক এবং ১৯৭৫ সাল থেকে উক্ত রাজ্যের বিশিষ্ট কংগ্রেসী মন্ত্রী সোনম ওয়াঙ্গিয়ালের পুত্র সোনম ওয়াংচুক হলেন শিক্ষায় প্রযুক্তিবিদ ও পেশায় অ্যাক্টিভিস্ট। অনেকে দাবী করেছিলেন তিনি বিজ্ঞানী, কিন্তু বাস্তবে তাঁর শিক্ষা বিজ্ঞানের প্রায়োগিক ক্ষেত্র সংক্রান্ত। উপরন্তু, বহু বছর ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে অনশন আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর অ্যাক্টিভিজম্’এর নানা কার্যক্রম যে বিষয়ে মহাত্মা গান্ধীকেই বুঝি বা আইডল বানিয়েছেন তিনি। ফলে প্রযুক্তি অপেক্ষা অ্যাক্টিভিজম্ই হয়ত দখল করে থাকছে ওয়াংচুকের জীবনের অধিকাংশ সময়।

অ্যাক্টিভিজমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি 

এসবের স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন সময়ে সময়ে নানা পুরস্কারের মাধ্যমে। যথা, ২০১৬’য় ফ্রেড এম. প্যাকার্ড অ্যাওয়ার্ড ও রোলেক্স অ্যাওয়ার্ড ফর এন্টারপ্রাইজ, ২০১৭’য় গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড ফর সাসটেইনেবল আর্কিটেকচার এবং ২০১৮’য় পান রামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড। এত পুরস্কার নাগাড়ে পাওয়ার পশ্চাতে লবির জোর যে ওয়াংচুকের ছিলই সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ এই সকল পুরস্কার পেতে পাশ্চাত্য দুনিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের মন জুগিয়ে যে চলতেই হয়, সচেতন ও অবহিত মানুষ মাত্রই তা বোঝেন বা জানেন।

আন্তর্জাতিক স্তরে লবি তথা খুঁটির জোর 

অনেকে বলেন, সোনম ওয়াংচুকের প্রথম স্ত্রী আমেরিকার রেবেকা নরম্যানের সঙ্গে সম্পর্কই নাকি ওয়াংচুকের লবির জোরের আদত কারণ যদিও এমন দাবীর সপক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাই নি। বরং ১৯৮৮ সালে নিজের এনজিও SECMOL যখন গড়ে তোলেন ওয়াংচুক, তাঁর নিজের বয়স তখন মাত্র ২২ এবং SECMOL গড়ে তুলতে আর্থিক সাহায্য তিনি তখনই পেয়েছিলেন বহু বিদেশীর কাছ থেকে। লাদাখের প্রভাবশালী কংগ্রেসী মন্ত্রী পরিবারের পুত্র হিসেবে ওয়াংচুকের এ হেন খুঁটির জোর থাকার বিষয়টি তত অপ্রত্যাশিতও নয়। SECMOL’এর ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০’এর দশকের শুরু থেকেই এ হেন অর্থসাহায্য প্রদানকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ফিউচার আর্থ’ নামক একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণার নেটওয়ার্ক প্লাটফর্ম। কিন্তু এই তথ্যে রয়েছে এমন একখানি বিভ্রান্তি যে বিভ্রান্তিটি সামান্য না অসামান্য সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারি নি। 

SECMOL’এর ডোনার ‘ফিউচার আর্থ’এর পরিচিতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তি

AIMES’এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী “Future Earth was officially announced in June 2012 at the UN Conference on Sustainable Development (Rio+20), to be created as a global initiative to strengthen the interface between policy and science. Future Earth became fully operational with a permanent Secretariat at the end of 2015.” অন্যদিকে, SECMOL’এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী “The Future Earth Network supports initiative in development on the basis of social justice and ecological sustainability. Based in Sweden, the network has member organisations in Asia and Latin America. SECMOL has been a member since the 1990s, and other Ladakhi partner organisations are LEHO, LEDeG, Women’s Alliance of Ladakh and Ladakh Amchi Sabha.” বিভ্রান্তিটি কোথায় পাঠক তা নিশ্চয় চিহ্নিত করবেন! ফিউচার আর্থের প্রথম ঘোষণাই যদি হয়ে থাকে ২০১২ সালে, তবে ১৯৯০’এর দশক থেকে তার সদস্য হওয়া SECMOL’এর পক্ষে কিভাবে সম্ভব হল? নাকি AIMES’এর ‘ফিউচার আর্থ’ আর SECMOL’এর ওয়েবসাইটে উল্লেখিত ‘ফিউচার আর্থ’ দুইটি পৃথক সংস্থা?

২০২৫’এ ওয়াংচুকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তদন্ত তল্লাশি 

সোনম ওয়াংচুকের এনজিও SECMOL’এর ‘বুকস্ অফ অ্যাকাউন্টস্’ সম্পর্কে বিগত এক বছরে ভারত সরকার যখন অনুসন্ধিৎসু হয়ে পড়ে, তখন তদন্তকারীরা চিহ্নিত করেন যে সেই সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক হিসাবের গরমিল রয়েছে ২০১৮ সাল থেকে। এ প্রসঙ্গে স্মরণীয় যে ২০১৮ সালেই ওয়াংচুক পেয়েছিলেন রামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড যদিও তার সঙ্গে তাঁর আর্থিক অনিয়মের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে কি না তা নিশ্চিত জানা নেই। ২০২৫ সালের উক্ত তদন্তে SECMOL সহ সোনম ওয়াংচুকের বিভিন্ন এনজিও, সেগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সোনম ও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি ওয়াংমো’র নানা ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত স্ক্রুটিনি কার্য তদন্তকারীরা চালান।

আর্থিক তদন্তের পূর্বে—

এ হেন আর্থিক তদন্ত শুরু হওয়ার আড়াই বছর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে লাদাখে ৫ দিনের জন্য অনশন আন্দোলন করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ২০২২ সাল থেকেই লাদাখে খোঁজ শুরু করেছিল অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধাতুসমূহের যার মধ্যে ছিল প্লাটিনাম গ্রুপের বেশ কিছু ধাতু যথা প্লাটিনাম, প্যালাডিয়াম, রোডিয়াম, রুথেনিয়াম, ইরিডিয়াম ও অসমিয়াম। কিন্তু লাদাখে এই জাতীয় খনিজ দ্রব্য উত্তোলন ও ইণ্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার বিরুদ্ধে এইটিই ছিল সোনম ওয়াংচুকের প্রথম প্রতিবাদ আন্দোলন। অন্যদিকে, খনিজ অনুসন্ধান ছাড়াও তন্মধ্যেই লাদাখে ভারত সরকার নিয়ে ফেলেছিল আরও অনেকগুলি উচ্চাকাঙ্খী বিকাশমূলক প্রকল্প যার মধ্যে ছিল পুগা উপত্যকায় ওএনজিসি’র ১ মেগাওয়াট জিওথার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (ভারতের সর্বপ্রথম জিওথার্মাল প্রকল্পের এ হেন পরিকল্পনা অনুমোদিত হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে), প্যাং’এ সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ১১ গিগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট এবং চুশুলে এনটিপিসি’র ৩.৭ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার মাইক্রোগ্রিড তথা সোলার-হাইড্রোজেন প্রজেক্ট এবং মেরাক ব্লকে লিথিয়াম ধাতুর অনুসন্ধানের মত প্রকল্প।

লাদাখে লিথিয়ামেরও খোঁজ

নাগপুরের মিনারেল এক্সপ্লোরেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের (এমইসিএল) কাছ থেকে ভারত সরকারের কাছে প্রস্তাব ছিল লাদাখের লেহ্ জেলার মেরাক ব্লকে লিথিয়াম ধাতুর অনুসন্ধানের জন্য। অতঃপর সেই এক্সপ্লোরেশন সেখানে শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট এমএমডিআর আইন‌ সংশোধন করে সরকারি এবং বেসরকারি উভয় প্রকার সংস্থাকেই এ হেন লিথিয়াম অনুসন্ধানের কাজে অংশগ্রহন করানোর উদ্যোগ ভারত সরকার নিয়ে ফেলে। আর এসবের প্রেক্ষিতেই ওয়াংচুক বলেছিলেন লাদাখ পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল, ফলে স্থানীয় লোকেদের পরামর্শ ও অংশগ্রহন বিনা বড় মাপের কর্পোরেট সংস্থাসমূহের সুবিশাল সব কর্মযজ্ঞ লাদাখে চলতে পারে না।

লাদাখে এত সব কর্মযজ্ঞ ওয়াংচুকের না-পসন্দ, কিন্তু কেন?

এর জন্য লেহ্ অ্যাপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের সঙ্গে জোট বেঁধে লাদাখের জন্য ওয়াংচুক চেয়ে বসেন পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ শেডিউলের প্রোটেকশন। রাজ্যের মর্যাদা তথা ষষ্ঠ শেডিউলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারলে অনেকখানি স্বশাসনের অধিকার পেত লাদাখ এবং সেই কারণ দেখিয়েই কর্পোরেট তথা ভারত সরকারি সংস্থাগুলির কাজে বাধা সৃষ্টি করা ওয়াংচুক বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হত। কিন্তু ভারত সরকারের তরফ থেকে এই সকল দাবী মেনে নেওয়া হলে লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তে যে প্রকার মিলিটারি পরিকাঠামো গঠনের কাজে ভারত সরকার হাত দিয়েছে, তা আটকে যেত।

বস্তুতঃ ভারত-চীন সীমান্তে মিলিটারি পরিকাঠামো গঠন প্রতিরোধ করতেই ওয়াংচুক আন্দোলন করছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার উপায় আমাদের কাছে নেই।

ওয়াংচুকের মতকে ভারত সরকারের সম্মান জ্ঞাপন 

লাদাখ পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল একথা পূর্ণ সত্য। কিন্তু লাদাখের বিকাশে বাধা যদি সোনম ওয়াংচুকের তরফ থেকে আসে, তবে তার পশ্চাতে বিদেশী মদতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া চলে না, বিশেষতঃ ওয়াংচুকের সংস্থা SECMOL যেখানে গোড়া থেকেই বিদেশী অর্থের মদতপুষ্ট। বিদেশী অর্থের সাহায্যে শিক্ষা প্রসারের কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ, কিন্তু বিদেশী অর্থের অপব্যবহারের সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া ভারত সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে ওয়াংচুক বাহিনীর আন্দোলনের কারণে ২০২৩’এর জানুয়ারি মাসেই লেহ্ অ্যাপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনায় বসে ভারত সরকার, কিন্তু রফা সূত্র বেরোয় না।

২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ

অতঃপর চলে আসে ২০২৪। পুগা উপত্যকায় ওএনজিসি’র জিওথার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টটির কাজ শুরু হওয়ার পর উপযুক্ত ড্রিলিং ইক্যুইপমেন্টের অভাবে বন্ধ ছিল দু’বছর যা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা হয় ২০২৪ সালে এবং এই বছরেও ৬’ই মার্চ তারিখে ওয়াংচুক শুরু করেন ২১ দিনের একটি অনশন আন্দোলন যেটির নাম দেন “ক্লাইমেট ফাস্ট”। বলেন লাদাখের পরিবেশ যেহেতু অতি সংবেদনশীল, ফলে ষষ্ঠ শেডিউলের মত সাংবিধানিক সুরক্ষা লাদাখের জন্য অপরিহার্য। অর্থাৎ ওয়াংচুক হয়ত চাইছিলেন না যে বিনাবাধায় ভারত সরকারের বিকাশকার্য লাদাখে চলতে পারুক। নচেৎ লাদাখের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনার মধ্যে না রেখেই যে ভারত সরকার সেই স্থানে পরিকাঠামো গঠনে হাত দেবে এমন অবিশ্বাসের যৌক্তিকতাটি কি ছিল? ওয়াংচুক সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিকে বিদ্ধ করেন ওয়াংচুক 

তবে এই “ক্লাইমেট ফাস্ট”এর সময় শ্রীরামচন্দ্র ও মাতা সীতাকে নিয়ে এমন একখানি মন্তব্য তিনি করেন, ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের জন্য যা ছিল চরম বেদনাদায়ক। এই প্রকার মন্তব্যের দ্বারা সনাতন ধর্মের অনুসারীদের যন্ত্রণাবিদ্ধ করার কাজটি নিয়মিত করে চলেছেন ভারতের মিশনারিরা। উপরন্তু, SECMOL’এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের বিদেশী ডোনারদের মধ্যে রয়েছে ড্যানচার্চএইডের মত সংস্থাও যারা ক্রীশ্চানিটির মিশনে কাজ করে না এমন কোনো প্রমাণ নেই। উপরন্তু, তারা করে থাকে পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্থানে লুকোনো ল্যাণ্ডমাইন সরানোর কাজও। অর্থাৎ সেই সূত্রে খননের কাজও যে তারা করেই থাকে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। ফলে ওয়াংচুকের ডোনার হিসেবে লাদাখে ড্যানচার্চএইডের প্রকৃত মিশন কি, সে সম্পর্কে ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স অবহিত বলেই ধরতে হবে। “ক্লাইমেট ফাস্ট” ওয়াংচুক শেষ করেন ২৬'শে মার্চ এবং ঘোষণা করেন যে রিলে অনশন ও অন্যান্য নানা প্রকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন তাঁর দিক থেকে চলতেই থাকবে।

পুগা ভ্যালির জিওথার্মাল প্ল্যান্টের খননের পুনরারম্ভ ও ওয়াংচুক’এর দিল্লি মার্চ

পুগা ভ্যালির জিওথার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের খননের কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পরেই ২০২৪'এর সেপ্টেম্বর মাসে ১০০ জন সমর্থককে নিয়ে ওয়াংচুক যাত্রা করেন দিল্লির উদ্দেশ্যে। লেহ্ থেকে দিল্লি’র ১০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রান্তে ১’লা অক্টোবর তাঁরা পৌঁছন দিল্লির সীমান্তে যেখানে রাজধানী শহরের সুরক্ষামূলক নিয়মনীতির বলে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। যাত্রাকারীরা চেয়েছিলেন গান্ধী জয়ন্তীর দিন গান্ধী মেমোরিয়ালের স্থলে জমায়েত হতে। পরে অবশ্য পুলিশ ওয়াংচুককে ছেড়ে দেয় এবং দায়িত্ব নিয়ে তাঁদেরকে পৌঁছে দেয় গান্ধী মেমোরিয়ালের স্থলে।

প্রতিবাদ আন্দোলন সত্ত্বেও লাদাখে এগোতে থাকে পরিকাঠামো গঠনের কাজ

লাদাখ ও দিল্লিতে নানা প্রকার প্রতিবাদ আন্দোলন করা সত্ত্বেও তরতর করে এগিয়ে যেতে থাকে পুগা উপত্যকার জিওথার্মাল প্ল্যান্ট, প্যাং’এর সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট, চুশুলের সোলার-হাইড্রোজেন প্রজেক্ট এবং মেরাক ব্লকের লিথিয়াম অনুসন্ধানের মত প্রজেক্টের কাজ (যদিও লাদাখের লিথিয়াম রিজার্ভ অপ্রতুল বলেই রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে) এবং সেই সঙ্গে চলতে থাকে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অন্যান্য খনন কার্যও।

২০২৫’এর ফেব্রুয়ারিতে ওয়াংচুকের পাকিস্তান গমন

 অতঃপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সোনম ওয়াংচুক চলে যান‌ ইসলামাবাদে, ‘ডন মিডিয়া’র দ্বারা আয়োজিত ‘ব্রিদ পাকিস্তান’ নামক ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্সে ‘Glacial Melt: A Sustainable Strategy for the Water Towers of South Asia.’ শীর্ষক একটি প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নিতে। প্রতিবাদের ষোলোকলা পূর্ণ হল ওয়াংচুকের পাকিস্তান ভ্রমণের মাধ্যমে যে ঘটনাটিকে উপেক্ষা করা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই ভারত সরকারের পক্ষে আর সম্ভব ছিল না।

২০২৫’এর জুলাইয়ে ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু 

অতঃপর ২০২৫’এর জুলাই মাস থেকেই সিবিআই শুরু করে ওয়াংচুকের বিদেশী অর্থ গ্রহনের অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্বন্ধীয় তদন্ত যার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ঢুকে পড়ে ইডি’ও।‌ অতঃপর ২০২৫’এর ২৫শে সেপ্টেম্বর তারিখে ভারত সরকারের F.No.II/21022/58(1)/63/2025-FCRA (MU)নম্বর অর্ডারে দৃষ্ট হয় যে ওয়াংচুকের এনজিও SECMOL’এর এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন উক্ত আইনের ১৪ নং ধারা অনুযায়ী ভারত সরকার বাতিল কেন করবে না সেই কারণ দর্শানোর একখানি নোটিশ স্পীড পোস্টের মাধ্যমে ২০২৫’এর ২০শে অগাস্টেই SECMOL’কে পাঠিয়েছিল ভারত সরকার। অতঃপর সেই মর্মে একটি ইমেইলও পাঠায় ১০ই সেপ্টেম্বর তারিখে আর এই ১০ই সেপ্টেম্বর থেকেই যে আন্দোলন লাদাখে শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক, সেইটিকে কোনোমতেই আর শান্তিপূর্ণ গান্ধীবাদী আন্দোলন বলার উপায় ছিল না। বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল লাদাখ, ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে উঠেছিল উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়ে হিংসা উৎপাদন ও জাতীয় নিরাপত্তাহানির অভিযোগ, ঘটেছিল এমনই সংঘর্ষ যে আত্মরক্ষার্থে গুলি পর্যন্ত চালাতে হয়েছিল পুলিশকে এবং পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় চার জনের, আহত হন প্রায় জনা ষাটেক লোক যার পর ২৪শে সেপ্টেম্বর আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ওয়াংচুক।

জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেফতার সোনম ওয়াংচুক 

আর তার ঠিক পরের দিনই উপরোক্ত অর্ডারটির মাধ্যমে SECMOL’এর এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে ভারত সরকার এবং ২৬’শে সেপ্টেম্বর তারিখেই জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ওয়াংচুককে গ্রেফতার করে লাদাখ থেকে নিয়ে আসা হয় মহারাষ্ট্রের জলগাঁও’এর জেলে। এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি।

ওয়াংচুকের গ্রেফতারের দু’দিন পরেই রক্ষা মন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন চুশুলের সোলার প্ল্যান্টের 

তবে ওয়াংচুকের গ্রেফতারের মাত্র দু’দিন পরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন চুশুলের ৩.৭ মেগাওয়াট সোলার প্ল্যান্টটি। ফলে প্রশ্ন ওঠে যে সোনম ওয়াংচুকের উপস্থিতিতে কি চুশুল প্ল্যান্টের উদ্বোধন সম্ভব ছিল না? অথচ চু্শুলের এই সোলার হাইড্রোজেন বেসড্ মাইক্রোগ্রিডটি চালু হওয়ার ফলে লাদাখে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোস্টগুলিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিজেলের ব্যবহারের প্রয়োজন আর রইল না এবং সমতলভূমি থেকে লাদাখের ঐ চরম উচ্চতায় ডিজেল বয়ে নিয়ে আসার মত গুরুতর সমস্যারও সমাধান হয়ে গেল। গ্রীন এনার্জির স্থানীয় উৎপাদন ও তার ব্যবহার যে লাদাখের বিকাশ ও পরিবেশ উভয়ের পক্ষেই সুফলদায়ক, তা বলাই বাহুল্য। তাহলে ওয়াংচুক প্রতিবাদ করছিলেন কোন্ কারণে? আর কেনই বা এনএসএ আইনে তাঁকে গ্রেফতার করে তবেই চুশুল প্ল্যান্ট উদ্বোধন করতে পারল ভারত সরকার? ওয়াংচুক কি আদতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরন্তরতার সুবিধাটির বিরোধিতা করেছিলেন?

বিবিসি লণ্ডনের রিপোর্ট 

এ প্রসঙ্গে ২০২৬ সালের ২০শে জুলাই তারিখে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত বিবিসি’র একটি রিপোর্টে লেখা হয়, “Ladakh is strategically significant for India as it shares borders with both China and Pakistan.

The federal government has sanctioned several highways, power projects and military-related infrastructure in Ladakh, which Wangchuk says will harm the region, especially in the absence of consultation with local representatives.

“We don’t oppose development. We want sustainable growth,” he said.

Wangchuk and his supporters say that Ladakh’s ecology means that it can’t follow the development models of other Indian states.” বিবিসি’র এই রিপোর্ট থেকে মনে হয় যে লাদাখে ভারত সরকারের মিলিটারি-সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয় নিয়েই আপত্তি ছিল ওয়াংচুকের যদিও সে অভিযোগ তিনি স্বীকার করেন নি।

ভারতের লাদাখের বিকাশ চীন-অধিকৃত লাদাখের বিকাশের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে কি?

লাদাখের ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু সম্পর্কে জানলে লাদাখের বিকাশ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের বিকাশের মডেলে হতে পারে না বলে ওয়াংচুকের মন্তব্যটি ১০০ শতাংশ সঠিক বলে মনে হয়। কিন্তু চাং গিরিপথ (চাং-লা) পেরিয়ে প্যাঙ্গং লেক (প্যাঙ্গং-সো)’এর ওপারে চীনের এলাকার মধ্যে যে প্রকার সেনা পরিকাঠামো চীন গড়ে তুলেছে এবং যে প্রকার বিকাশ ঘটিয়েছে চীন-অধিকৃত লাদাখের, সেই মডেলের সঙ্গে ভারত সরকার পরিকল্পিত লাদাখের বিকাশের মডেলের তুলনা চলতে পারে কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে ওয়াংচুককে কখনও শোনা যায় নি। লাদাখের চৈনিক অংশের বিকাশের মডেলে ভারতীয় লাদাখের বিকাশ কি চলবে? ওয়াংচুক বলেন নি। বরং অজানা কোনো এক স্থানীয় কমেডিয়ানকে (যাঁর কমেডি কখনও শুনিনি) উদ্ধৃত করে ওয়াংচুক বলেন যে উক্ত কমেডিয়ান নাকি বলেছেন যে ‘চীন ঢুকলে আমরা, লাদাখিরা প্রতিরোধ করি, কিন্তু ভারত সরকার যদি আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে, তবে এবার থেকে চীন এলে আমরাই দেখিয়ে দেব ভিতরের পথ’। এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদের ইঙ্গিতবাহী মন্তব্যও ওয়াংচুক করেছিলেন। লাদাখের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যে মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার উপায় ভারত সরকারের ছিল না।

২০২৫’এর লাদাখে সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মূল কারণ 

২০২৫’এর সেপ্টেম্বর মাসে ওয়াংচুকের আন্দোলনের মূল কারণ যে ছিল তাঁর এফসিআরএ ও অন্যান্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হিসাবের গরমিলগুলির বিষয়ে ভারত সরকারের কঠোর মনোভাব এবং সে বিষয়ে তাঁকে শো-কজ করা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রায় নেই। 

আর্থিক গরমিল সংক্রান্ত তথ্যাদি 

২০২৫’এর ২৭শে সেপ্টেম্বর হিন্দুস্থান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী—

অভিযোগ ১:

২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫ করনির্ধারণবর্ষের মধ্যে ওয়াংচুকের একটি সংস্থার বিদেশী অনুদানের পরিমাণ ৬ কোটি থেকে বেড়ে হয় ১৫ কোটি। এক বছরে ২৫০% বৃদ্ধিকে রেড ফ্ল্যাগ করা হয়।

অভিযোগ ২:

এই সংস্থার ৭’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৪’টিই নাকি সরকারের কাছে ছিল অঘোষিত।

অভিযোগ ৩:

সংস্থাটি নাকি বৈধ এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গ্রহন করেছে ১.৫ কোটি টাকারও বেশি বিদেশী অনুদান।

অভিযোগ ৪:

বিদেশী অনুদান প্রাপ্ত একটি সংস্থা থেকে শেশ্যঁ ইনোভেশনস্ প্রাইভেট লিমিটেড নামে সোনম ও গীতাঞ্জলির যৌথ মালিকানার আর একটি সংস্থায় ৬.৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

অভিযোগ ৫:

SECMOL’এর ৯’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৬’টিই সরকারের ঘরে দেখানো নেই। 

অভিযোগ ৬:

স্থানীয় লোকেদের থেকে সংগৃহীত অর্থ ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩’এর মধ্যে জমা পড়েছে তাঁদের এফসিআরএ অ্যাকাউন্টে যা কিনা এফসিআরএ আইনের ১৭ নম্বর ধারার স্পষ্ট উল্লঙ্ঘন।

অভিযোগ ৭:

৯.৮৫ কোটি টার্ণ ওভারের শেশ্যঁ ইনোভেশনস্’এর লভ্যাংশ ২০২৩-২৪’এ ৬.১৩% থেকে ২০২৪-২৫’এ এক ধাক্কায় কমে হয় ১.১৪%। এই কম্প্যানিরও তিনটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুই’টিই ছিল অঘোষিত।

অভিযোগ ৮:

২০২৩ সালে খোলা হয় একটি নতুন অ্যাকাউন্ট যেটি সম্বন্ধে তদন্তকারীদের সন্দেহ যে ঐ অ্যাকাউন্ট খোলার আদত উদ্দেশ্য কাজের উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত অর্থের উদ্বৃত্ত অংশ (যা ঘোষিত কার্যে ব্যবহৃত হয় নি) জমা করে নয়ছয় করা। 

অভিযোগ ৯:

ওয়াংচুকের ৯’টি ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৮’ই সরকারের ঘরে দেখানো নেই যে অ্যাকাউন্টগুলিতে ২০১৮ থেকে ২০২৪’এর মধ্যে এসে জমা হয়েছে ১.৬৮ কোটি বিদেশী অনুদান। 

অভিযোগ ১০:

২০২১ থেকে ২০২৪’এর মধ‌্যে ওয়াংচুক বিদেশে পাঠিয়েছেন ৩.২৩ কোটি টাকা যা কিনা মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় তদন্তসাপেক্ষ।

এতদ্‌ অভিযোগ সম্পর্কে ওয়াংচুক উবাচ

ওয়াংচুক অবশ্য বলেন যে তাঁরা তাঁদের জ্ঞান বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশী অর্থ উপার্জন করেন। ফলে ঐগুলি অনুদান নয়, উপার্জন।

সোনম ওয়াংচুকের জ্ঞান ও বিদ্যা

যে কৃত্রিম হিমবাহ সোনম ওয়াংচুকের আবিস্কার বলে শোনা গিয়েছিল, সে কথা আদতে অসত্য। ভারতের মিঃ গ্লেসিয়ার তথা দ্য আইসম্যান অফ লাদাখ হলেন শ্রী চেওয়াং নোরফেল। ইকোসেনসরিয়াম.ওআরজি সাইটের তথ্য অনুযায়ী ‘Chewang Norphel, the ice-man as he Is called is the pioneer of artificial glaciers for agriculture and livelihood in Ladakh region. Mr. Norphel has pioneered the first artificial glacier in 1987 in Phuktse Phu village to increase the agricultural production resulting into increase in the income of local people.’ এই চেওয়াং নোরফেলের অবদানকে বর্ণনা করে এবং লাদাখের ভূমিতে তাঁর ভূমিকা ঠিক কি সে বিষয়ে প্রতিবেদন আছে ইউনাইটেড নেশনস্’এর তরফ থেকেও। কৃত্রিম হিমবাহ গড়বার জন্য ২০০৮ সালে ‘রিয়েল হিরোজ অ্যাওয়ার্ড’ও তিনি পেয়েছিলেন, অথচ সে বিষয়টি এবং সেই ব্যক্তি নিজে বর্তমানে আলোচনার সম্পূর্ণ বাইরে আর প্রচারের সমস্ত আলো গিয়ে পড়েছে সোনম ওয়াংচুকের উপর। তাঁর ‘আইস স্তূপ’ তৈরির বহু পূর্বেই যে চেওয়াং নোরফেল বানিয়ে ফেলেছিলেন কৃত্রিম হিমবাহ, সত্যের খাতিরে সে কথা বলতেই হবে।‌ বস্তুতঃ সোনম ওয়াংচুকের সংস্থা SECMOL’এর জন্মের এক বছর আগেই প্রথম কৃত্রিম হিমবাহটি লাদাখে তৈরি করেন চেওয়াং নোরফেল (সোনম ওয়াংচুকের তখন মাত্র ২১ বছরের ছাত্র) যে ভদ্রলোককে বলা হয় ‘দ্য আইসম্যান অফ লাদাখ’। এতদভিন্ন আরও অন্যান্য বেশ কিছু কৃতিত্বের ভাগ পেয়েছেন ওয়াংচুক যা আদৌ তাঁর প্রাপ্য কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক আছে। তবে ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিজমে ওয়াংচুক যে গ্রেটা থানবার্গের মতই বিশ্বজোড়া এক নাম, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

এনএসএ’র বিশেষ ধারায় সোনম ওয়াংচুক ছাড়া পান ছ’মাসের মধ্যে

এ হেন সোনম ওয়াংচুককে ২০২৫’এর সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেফতার করেও মাত্র ছ’মাসের মাথায় ২০২৬’এর ১৪ই মার্চ ভারত সরকার তাঁকে ছেড়ে দেয় জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ১৪ নম্বর ধারার বলে যে ধারা সচরাচর প্রযুক্ত হয় না প্রায় কোনো বন্দীর জন্যই। কিন্তু ওয়াংচুকের জন্য এই ধারা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক প্রয়োগ করে লাদাখে শান্তিশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে। 

তাঁর মুক্তির সাড়ে তিন মাস পর ২০২৬’এর জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে আবার যে অনশন আন্দোলন তিনি শুরু করেন সে হল গিয়ে ওয়াংচুকের অ্যাক্টিভিস্ট জীবনের পরবর্তী আর একটি অধ্যায় যে বিষয়ে লিখতে হবে প্রতিবাদের গল্পের পরবর্তী অধ্যায় তথা আরশোলাদের কাহিনী।



Comments

Popular posts from this blog

রথযাত্রা: কুমুদরঞ্জন মল্লিক

অর্থ, কালো টাকা, বিমুদ্রাকরণ

নব্য কথামালা: শেয়াল ও সারসের গল্প

Radical Forces Spreading Tentacles: Bangladesh to West Bengal to Jharkhand