রাখীবন্ধন: নারী সুরক্ষাপ্রার্থিনী শুধু নয়, সুরক্ষাদায়িনী

শ্রাবণ ভাদ্র মাসে রাখীপূর্ণিমার রাতটি মায়াময়। ঘনমেঘের আড়াল থেকে পূর্ণিমার চাঁদ জলভরা আকাশের গায়ে এঁকে দেয় সপ্তবর্ণা গোলাকৃতি রঙ্গোলি। চাঁদকে দেখায় আঁধার আকাশকে আলোয় ভাসিয়ে দেওয়ার শপথের রাখীর মত! এমন দিনটিকেই ভারতবর্ষ উদযাপন করে রাখীবন্ধন বা রক্ষাবন্ধন হিসেবে। বলা হয় এই দিনে বোনেরা ভাইয়েদের হাতে রাখী বাঁধে ভাইয়ের কাছ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।


সত্যিই কি রাখীবন্ধন মানে কেবলমাত্র ভ্রাতার কাছ থেকে ভগিনীর নিরাপত্তা প্রার্থনার উদযাপন? তাহলে ‘শাপমোচন’ গীতিনাট্যে রবীন্দ্রনাথের সেই প্রেমের গানটি? যে গানে স্বামী স্ত্রী’কে বলছে ‘বাঁধিনু যে রাখী পরাণে তোমার, সে রাখী খুলো না’? অর্থাৎ রাখীবন্ধনের ব্যঞ্জনা আদতে গভীরতর।‌ রাখী যে কেউ বাঁধতে পারে, অন্য যে কাউকে। আর সে বন্ধনের শপথ হতে পারে স্নেহের, আত্মীয়তার, প্রেমের, বন্ধুতার বা অন্য যে কোনো প্রকার পারস্পরিক সুরক্ষার।


এমনই এক পুণ্য দিনে উত্তর আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হল “ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান হিউম্যানিটি” শীর্ষক এক সর্বধর্ম সম্মেলন যে সম্মেলনে ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক শ্রী মোহন ভাগবত ব্যাখ্যা করেন বৈশ্বিক স্তরে নির্বিকল্প, নিঃশর্ত পারস্পরিক রক্ষাবন্ধনের গুরুত্ব। বলেন পৃথিবীতে সকল দেশের পারস্পরিক বন্ধন ও সুরক্ষার শপথ হতে হবে নিঃশর্ত ও নিষ্কাম। রাখীবন্ধন দিবস অপেক্ষা একথা বলার যোগ্যতর দিন আর হতে পারত না।


রক্ষাবন্ধনের উৎপত্তি সংক্রান্ত বহু কাহিনীর মধ‌্যে প্রাচীনতম কাহিনীটি বোধ করি ভগবান বিষ্ণুর পঞ্চম অবতার বামন ও দানবরাজ বলী সম্পর্কিত কাহিনীটি।‌ দানবরাজ বলীর রাজ্য দেবতাদেরকে হস্তান্তর করে বলী রাজা’কে শ্রীবিষ্ণু পাঠিয়েছিলেন পাতাললোকের রাজা হিসেবে। পরিবর্তে বলী প্রার্থনা করেছিলেন বামনরূপী শ্রীবিষ্ণুকে নিজ রাজ্যের দ্বাররক্ষীর ভূমিকায়, আর শ্রীবিষ্ণুও সম্মত হয়ে রক্ষা করেছিলেন বলী রাজার রাজ্য। অন্যদিকে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে বৈকুণ্ঠে মাতা লক্ষ্মী হয়ে পড়েছিলেন একাকিনী। অতঃপর এক সুন্দরী কন্যার রূপ ধারণ করে তিনিও আসেন বলী রাজার রাজ্যে এবং রাজা তাঁকে সকল আবশ্যক আয়োজন সহকারে আশ্রয় দান করেন উপযুক্ত বিধিমত। অতঃপর যথাসময়ে সেই কন্যা যখন বলী রাজ্যের দ্বাররক্ষীকে বিবাহ করে জীবনে স্থিত হতে চাইলেন, বলী তখনই অনুধাবন করেন যে এ কন্যা আদতে মাতা লক্ষ্মী। আপ্লুত হয়ে দানবরাজ তখন জিজ্ঞেস করেন “তাহলে আমার রাজ্য রক্ষা করবেন কে”? মা লক্ষ্মী তখন বলী রাজার হস্তে বাঁধেন রক্ষণসূত্র। বলেন ঐ সূত্র যতক্ষণ থাকবে দানবরাজের হাতে, ততক্ষণ সুরক্ষিত থাকবেন রাজা বলী ও তাঁর রাজত্ব। অতঃপর শ্রীবিষ্ণুকে সঙ্গে নিয়ে মাতা লক্ষ্মী ফেরেন বৈকুণ্ঠে। এক্ষেত্রে মা লক্ষ্মীই ভগিনীরূপে রক্ষণ প্রদান করেছিলেন দানবরাজ বলীকে।


এই কাহিনীর অনুসরণেই ভ্রাতার হস্তে রাখী বাঁধার সময়ে ভগিনীরা উচ্চারণ করেন একখানি মন্ত্র। ‘येन बद्धो बलीराजा दानवेन्द्रो महाबलः। तेन त्वां प्रतिबध्नामि, रक्षे! मा चल ! मा चल !!’ অর্থাৎ “যেভাবে বলী রাজার হস্তবদ্ধ হয়ে সুরক্ষা প্রদান করেছ দানব শ্রেষ্ঠ মহাবল বলীকে, সেই ভাবে বাঁধলাম তোমাকে। হে রক্ষাসূত্র, অচল হয়ে রক্ষা করো আমার ভ্রাতাকে”।। এ মন্ত্র অনুযায়ী রাখী বন্ধনের মাধ্যমে ভগিনীই করেন ভ্রাতার সুরক্ষা প্রার্থনা।


আবার ভবিষ্যপুরাণ অনুযায়ী, দেবাসুরের এক যুদ্ধে হতক্লান্ত, পরাজিতপ্রায়, উদ্বিগ্ন দেবরাজ ইন্দ্রের বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে আপন দিব্যশক্তিকে একত্রবদ্ধ করে এক রক্ষাসূত্র প্রস্তুত করেন দেবী শচীন্দ্রাণী এবং বাঁধেন স্বামীর হাতে। এর ফলেই যুদ্ধজয়ের মনোবল ও উর্জা লাভ করেন দেবরাজ ইন্দ্র। এই কাহিনী অনুসারেও পুরুষকে সুরক্ষা প্রদান করে স্ত্রীশক্তি। 


মহাভারতে দ্রৌপদী ও কৃষ্ণের পারস্পরিক রক্ষাবন্ধনের কাহিনীটিও বহুজনবিদিত‌, এবং সেইরূপ বহুবিদিত অপর একটি ঘটনা হল আধুনিক কালে ১৯০৫ সালে বৃটিশ সরকার পরিকল্পিত বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে রাখীবন্ধন উৎসব পালন করার ঘটনাটি। হিন্দুসমাজের তরফ থেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে সেদিন বাঁধা হয়েছিল সম্প্রীতির রাখী যার ফলে বঙ্গভঙ্গ স্থগিত হয় ১৯১১ সালে।‌


এক্ষণে প্রশ্ন হল— রাখী কেবল ভ্রাতার হস্তে ভগিনীরা বাঁধেন ভ্রাতার কাছ থেকে নিজেদের সুরক্ষা প্রার্থনা করে— বর্তমান কালের এ হেন ধারণার উৎপত্তির মূলটি তাহলে কোথায়? উত্তর হল— সম্ভবতঃ ইসলামীয় শাসনকালে। ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণাদি না থাকলেও লোকমুখে কথিত আছে যে রাজস্থানের মেবারের রাণী কর্ণাবতী (রাণা সঙ্গ’র বিধবা পত্নী) ১৫৩৫ সালে গুজরাটের সুলতান বাহাদুর শাহের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে দিল্লির মুঘল বাদশা হুমায়ুনকে ভ্রাতৃ সম্বোধনে প্রেরণ করেছিলেন রাখী এবং বাহাদুর শাহের আক্রমণের বিরুদ্ধে হুমায়ুনের কাছে ভগিনীর মত প্রার্থনা করেছিলেন সুরক্ষা। কিন্তু বাস্তবে হুমায়ুনের পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় রাণী কর্ণাবতী এবং চিতোরের অন্য সকল নারীরা পালন করেন জহরব্রত ও আক্রমণকারী শত্রুর মনোবলে হানেন চরম আঘাত। যদিও সতীশ চন্দ্রের মত আধুনিক ঐতিহাসিকরা রাণী কর্ণাবতীর বাদশা হুমায়ুনকে রাখী প্রেরণ করার কাহিনীটিকে লোককথা বলেই মনে করেন। তৎসত্ত্বেও একথা অনস্বীকার্য যে ইসলামী শাসনকালে ভারতের নারীরা সাধারণভাবেই হয়ে পড়েছিল অসুরক্ষিত এবং সেই সময় থেকেই হয়ত বা রক্ষাবন্ধন অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে ভগিনীদের ভ্রাতাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করার অনুষ্ঠান কারণ আক্রমণকারী মুসলিম পুরুষ ভারতের নারীদেরকে দেখেছিল ভিন্নপ্রকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। ফলতঃ এই কালখণ্ডে ভারতের নারী যথার্থই হয়ে পড়েছিল শারীরিকভাবে অসুরক্ষিত ও গৃহবন্দী। অতএব ভারতবর্ষের আজকের সমাজবোধের প্রেক্ষাপটটি এবং সেই সূত্রে রাখীবন্ধন উৎসবের তাৎপর্যের বর্তমান আঙ্গিকটি হয়ত বা ইসলামীয় শাসনকাল থেকে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির যে সামাজিক পরিবর্তন শুরু হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। এমন ধারণা (হাইপোথিসিস) অযৌক্তিক নয় কারণ ইসলামীয় শাসনকালের মধ্যবর্তী সময়েও ভারতবর্ষ আক্রান্ত হয়েছিল যে সকল বহির্শত্রুর দ্বারা (যথা পর্তুগিজ, ড্যানিশ, ডাচ, ফ্রেঞ্চ, বৃটিশ ইত্যাদি), নারীর প্রতি তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল নারীর প্রতি ইসলামীয়দের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সাযুজ্যপূর্ণ এবং নারীর প্রতি ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাদৃশ্যহীন।


কিন্তু তৎসত্ত্বেও যে প্রশ্নটি রয়ে যায় তা হল— পুরুষের শারীরিক বল যেহেতু নারীর শারীরিক বল অপেক্ষা সাধারণভাবেই অধিক, ফলে বর্তমান সময়ের পাশ্চাত্যধর্মী-দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্রাতা, স্বামী আদি পুরুষের জন্য ভগিনী, স্ত্রী আদি নারীর দ্বারা প্রদত্ত রক্ষাসূত্রের কার্যকারিতার বিশ্বাসযোগ্যতা কতখানি? সহজ ভাষায় বললে, পুরুষকে রক্ষা করার ক্ষমতা নারীর কি থাকতে পারে?


এ প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর যেমন আছে ভারতবর্ষের মাটিতে আক্ষরিক অর্থেই অসংখ্য বীরাঙ্গনার কীর্তিতে, তেমনই আছে আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যেও। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় আসার পূর্বে উদাহরণস্বরূপ এবং তুলনামূলকভাবে বলা যেতে পারে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সেনেকা ফলস্ কনভেনশনের মাধ্যমে আমেরিকায় যখন শুরু হয়েছিল উইমেন্স রাইটস্ মুভমেন্ট, পাশ্চাত্য দুনিয়ার নারীমুক্তি আন্দোলনের সেইটিই ছিল শুরু। সে মুভমেন্টের প্রাণস্বরূপিনী নারী ছিলেন এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যানটন যাঁর জন্মের 40/45 বছর আগে রাঢ়বঙ্গে চুয়াড় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গদেশের এক নারীরত্ন রাণী শিরোমণি। অর্থাৎ পাশ্চাত্যের নারীরা যখন নারীর ভোটাধিকার অর্জনের জন্য তথা আমেরিকায় দাসপ্রথা বিলোপের জন্য কণ্ঠ ছাড়তে আরম্ভ মাত্র করছেন, তার বহু পূর্বেই ভারতবর্ষের মাটি বারংবার কেঁপে উঠেছে বহু ভারতীয় বীরাঙ্গনার পদভারে। অর্থাৎ নারী যে সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম, ভারতের ইতিহাস তার সাক্ষ্য দিতে কার্পণ্য করবে না।


তবে সেই সঙ্গে একথাও সত্য যে নারী যখনই অস্ত্র ধারণ করেছে বা বীরধর্ম পালন করেছে, তখনই তারা তা করেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হেতু নয়, বরং প্রতিপক্ষের হাত থেকে নিজ পরিসরটির রক্ষার্থে। ভারতের ইতিহাসে অস্ত্রধারণ করে যুদ্ধে গিয়েছেন ও জয়লাভ করেছেন অসংখ্য নারী। বঙ্গদেশের ভুরিশ্রেষ্ঠর রাণী ভবশঙ্করী তার অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু এই সকল ক্ষেত্রেই নারী রুখে দাঁড়িয়েছিল নিজ রাজ্য তথা নিজ পরিসরের রক্ষার্থে, অপরের সাম্রাজ্য দখল করে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য নয়। অর্থাৎ একথাও বলাই যায় যে পুরুষ যেখানে আগ্রাসী হয় দর্প ও ক্ষমতা প্রদর্শন হেতুও, নারী সেখানে আগ্রাসী হয় মূলতঃ নিজ পরিসরের সুরক্ষা হেতু। নারীর প্রাথমিক চাহিদাই হল সুরক্ষা।


নারীশরীরের হরমোনাল বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই আছে এ হেন সুরক্ষাপ্রবণ এবং নিজ পরিসরের রক্ষার্থে সুরক্ষামূলক আক্রমণাত্মকতার ব্যাখ্যা। আধুনিক গবেষণা বলছে, ইস্ট্রোজেন, অক্সিটোসিন ও ভাসোপ্রেসিন নামক তিনটি হরমোনের সুস্থিত শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্যের উপরেই নাকি নির্ভর করে নারীর এ হেন আচরণ। অসামান্য যত্ন, আদর, সহযোগিতা ও বন্ধুতা দেওয়ার এবং সেই সঙ্গে প্রিয়জনের বিপদের আভাস পাওয়ার ক্ষমতা (যে ক্ষমতা নারীর তুলনায় পুরুষের নিতান্ত কম) তথা বিপদের মুখে শ্বাপদের মত হঠাৎ হিংস্র ও ভয়ঙ্কর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার ক্ষমতা ও প্রবণতা একান্তই নারীর হরমোনাল বৈশিষ্ট্য। যে অক্সিটোসিনকে “প্রেমের হরমোন” বলে ডাকা হয়, নারীর শরীরে সেই অক্সিটোসিনের প্রগাঢ় উপস্থিতির কারণেই ক্ষরিত হয় ভাসোপ্রেসিন নামক আর একটি হরমোন আর তার ফলেই নাকি প্রিয়জনের রক্ষার্থে হঠাৎ আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে নারী। নিজ সন্তান তথা নিজ পরিসরের সুরক্ষার্থে নারীর এ হেন হঠাৎ আক্রমণাত্মক শক্তিই আদতে ‘মাতৃশক্তি’। যে অক্সিটোসিন পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে মিলে পুরুষকে শেখায় স্বতঃস্ফূর্ত আক্রমণাত্মকতা (অফেন্সিভ অ্যাগ্রেশন), সেই অক্সিটোসিনই নারীদেহে ইস্ট্রোজেনের সাযুজ্যে নারীকে করে তোলে পর্যবেক্ষণশীল এবং নিজ পরিসরের প্রতি সুরক্ষাপ্রবণ (টেণ্ড অ্যাণ্ড বিফ্রেণ্ড) এবং প্রয়োজনে হঠাৎ হিংস্র (ডিফেন্সিভ অ্যাগ্রেশন)। কেবলমাত্র মনুষ্য প্রজাতি নয়, জীবজগতের বহু প্রজাতির মধ্যেই পরিলক্ষিত হয় ‘মাতৃশক্তি’র এ হেন আধার। সন্তানের সুরক্ষায় মা যে শত্রুর প্রতি হয়ে উঠতে পারে চরম হিংস্র, প্রাণীজগতে সে উদাহরণের অভাব নেই। রাণী লক্ষ্মীবাঈ যখন “মেরি ঝাঁসি দুঙ্গি নহি” বলে শিশুপুত্রকে নিয়ে লর্ড ডালহৌসির ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন, তখন তাঁর আচরণেও ঐ ‘ডিফেন্সিভ অ্যাগ্রেশন’ই পরিলক্ষিত হয়েছিল।


নারীর আভ্যন্তরীণ এ হেন ‘মাতৃশক্তি’ অবশ্য দীর্ঘ অব্যবহারে হয়ে পড়ে অকার্যকরী। সেই কারণেই রাখীবন্ধনের মত অনুষ্ঠানে নারীর মধ্যেকার সুরক্ষামূলক আক্রমণাত্মকতার উপস্থিতিকে স্মরণ ও উদযাপন করা আবশ্যক। রাখীবন্ধনের দিন আয়োজন করা যেতে পারে নারীর শারীরিক বলচর্চার প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। মনে রাখা আবশ্যক যে ভগিনী ভ্রাতার কাছে সুরক্ষাপ্রার্থিনী শুধু নয়, ভ্রাতার সুরক্ষাদায়িনীও।

Comments

Popular posts from this blog

রথযাত্রা: কুমুদরঞ্জন মল্লিক

অর্থ, কালো টাকা, বিমুদ্রাকরণ

নব্য কথামালা: শেয়াল ও সারসের গল্প

Radical Forces Spreading Tentacles: Bangladesh to West Bengal to Jharkhand