Posts

সাম্প্রদায়িকতা: প্রকৃতপক্ষে কি? (শেষ পর্ব)

সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে লিখতে লিখতে, তিনটি পর্ব লিখবার পর এই বিষয়টিতে ছেদ পড়ে। অন্য নানা বিষয় অত্যন্ত বেশী করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ফলে এই বিষয়টা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা বিষয়টি আসলে আমাদের বর্তমান সময়ের একটি highly palpable issue. একে এড়িয়ে যাওয়া চলবে না!সাম্প্রদায়িকতা যে মানবতা-বিরোধী কোন ধারণা নয়, তা প্রদর্শন ও প্রমাণ করার সময় এসেছে! এখনই সেই সময় যখন নিজেদের সাম্প্রদায়িকতাকে রক্ষা করার জন্যই আমাদেরকে অন্য সকল সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িকতাকে মেনেও নিতে হবে, অথচ সাম্প্রদায়িকতার অপব্যবহারের দ্বারা নিজের পছন্দ অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে যাওয়ার অসভ্যতাটি করলে চলবে না। আবার অন্য কোন সম্প্রদায় যদি এই একই ভুল করতে যায়, তবে তাদেরকেও থামাতে হবে। এখনই সেই সময় যখন সভ্যতা আমাদের কাছ থেকে আমাদের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তা, শ্রেষ্ঠ মানবিকতা, পূর্ণ পুরুষকার ও পূর্ণ যৌক্তিক আচরন দাবী করছে। আগেই লিখেছিলাম, সাম্প্রদায়িকতা সভ্যতারই অনিবার্য পরিণাম। সাম্প্রদায়িকতা is nothing other than categorization of human beings based on different parameters. সেই parameter গ...

গুষ্টির গুপ্তকথা (গুষ্টি অর্থাৎ GST : Goods and Services Tax)

বিগত কয়েকমাস যাবৎ যে বিশেষ বিষয়টি আসমুদ্র হিমাচলকে আলোড়িত করে তুলছে তা হল GST। এতদিনে অবশ্য আমরা সকলেই GST-র বিষয়ে অল্পবিস্তর জেনে ফেলেছি আর তাই এই লেখাটিতে আমি সেই জানা কথাগুলির চর্বিতচর্বন করা থেকে বিরত থাকছি। তবে যে প্রশ্নটির উত্তর হয়ত আমরা অনেকেই বারবার জ্ঞাতে অজ্ঞাতে খুঁজেছি কিন্তু সদুত্তর পাই নি তা হল এই, যে GST যদি এতই ভাল, তাহলে আমাদের রাজ্য সরকারের তা দ্রুত বলবৎ করতে এত অনীহা কেন? কেন তৃণমূল তা defer করতে এত মরিয়া? চালু করতে যখন আপত্তি নেই তবে পয়লা জুলাই-এর বদলে একমাস, দুমাস বা নিদেনপক্ষে কয়েকদিন বাদে থেকে তা বলবৎ করলে তাদের কী এমন সুবিধা হবে? আবার কেন্দ্রীয় সরকারই বা এই বিশেষ date থেকেই তা চালু করতে এত adament কেন? তাদেরই বা তাতে কী এমন বাড়তি সুবিধা হবে? মোট কথা, what's so special about the particular date of  July 1 ? আমি আজ মূলতঃ সেই প্রশ্নটিরই উত্তর খুঁজতে কলম ধরেছি। প্রথমেই লিখি যে, উপরোক্ত প্রশ্নটির সঠিক উত্তর পেতে গেলে আমাদেরকে সময়ের সরনি বেয়ে একটু পিছিয়ে যেতে হবে। বুঝতে হবে GST-র পরিপ্রেক্ষিতকে, সংক্ষেপে হলেও জানতে হবে তার উদ্ভবের বর্ণময় ই...

ও'গো' রাজনীতি

হঠাৎ গোরু কেন? ভারতবর্ষে তো অনেক সমস্যা। দারিদ্র, অনাহার, গৃহহীনতা, বেকারি ইত্যাদি! এই এত কিছু ছেড়ে হঠাৎ ভারতসরকার গোরু নিয়ে পড়ল কেন? গো মুখ্যু নাকি? আরে ছোঃ! ওই হিঁদুয়ানী দেখায় আর কি! গোরু খাওয়া বারণ করে দেবে। মুসলমানদের ভাতে মারবে। ওদের তো গোরু ছাড়া চলে না, ভারতবর্ষে থাকতে গেলে গোরু গিললে চলবে না। গোরুকে হিঁদুরা 'মা' বলে, পুজো পার্বনে পঞ্চগব্য খেয়ে শুদ্ধ হয়। সেই 'মা' কে কি কেটে খাওয়া চলে? তাই এই রাম বিজেপি হিঁদুয়ানী সরকার ভারতবর্ষে গোরু খাওয়া বারণ করে দিয়েছে। না গো-রাজনীতির রিয়েলপলিটিকো কারণ এতটা সহজ সরল নয়। এবং এ ও নয়, যে ভারতসরকার গোমাংস কেনা, বেচা এবং খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। না, মোটেই তা করেনি। কেরালা হাইকোর্ট যথার্থ বলেছেন, কোন বারণ নেই। তাহলে ব্যাপারটা কি? এত 'গবেষণা', গবাবেগ কিসের? দুঃখের কথা হল, গো-রাজনীতির আসল কারণ এই পোড়া পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করতে চাইছে না। এমনকি শ্রী সুকান্ত চৌধুরী স্যারও যখন ৩রা জুন, ২০১৭'র আনন্দবাজার পত্রিকায় 'গরুর উপর রচনা' শীর্ষক লেখাটি লিখলেন, তখন তিনিও আসল কারণ খোল...

Beef-Baffle: Bovine (Cow) Politics Part II

India is totally baffled about beef in the current days. People are having feast with beef in public. Why how-off? Does it mean that they are not actually enjoying the beef-meat, rather are enjoying the fact that they're able to sensitize many other people who don't believe in eating beef from religious viewpoint? In that case, the enjoyment of food is being futile. These in-public-beef-eaters are also indirectly endorsing  the so called BeefBan. Good enough that they're doing this. Too much objections means endorsement. Too much negativity is also the other side of positivity. In India the so called protest against the so called BeefBan has, hence, turned into a hoax. Cases were filed against the Central Government stating that they brought a ban on selling & eating beef which is unconstitutional as it goes against the 'right to eat' of people etc in three High Courts of the country; Kerala, Madras & Rajasthan. Out of these three, only Kerala HC b...

সাম্প্রদায়িকতা: প্রকৃতপক্ষে কি? Part III

সাম্প্রদায়িকতা কি, এই নিয়ে আলোচনাটা ক্রমেই আমার নিজের কাছেও তার নানা রং, রূপ বিস্তার করে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়ে উঠছে। আচ্ছা, বলুন তো, সাম্প্রদায়িকতা মানে কি শুধু ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা? তাই কি? সম্প্রদায় বিভাগ তো নানাপ্রকারের হয়, যেমন ধরুন, ঘটি-বাঙাল। ঘটি-বাঙালের রেষারেষিও কি এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা নয়? তা বলে কি আমরা তা নিয়ে আদৌ লজ্জিত? না, লজ্জিত তো নয়ই, বরং এই সাম্প্রদায়িকতাকে আমরা উপভোগ করি। নানা রসস্থ দ্বন্দ্বে সমৃদ্ধ এই ঘটি-বাঙাল সাম্প্রদায়িকতা। অথবা ধরুন তামিল-তেলুগু সাম্প্রদায়িকতা কিংবা তামিল-মালয়ালাম সাম্প্রদায়িকতা। একজন তামিলকে আমি বলতে শুনেছি , "একটি সাপকে বিশ্বাস করতে পারো, কিন্তু একটি মালয়ালীকে নয়"। আবার গুজরাতী ও পাঞ্জাবীর মধ্যেও আছে প্রাদেশিকতার দ্বন্দ্ব। গুজরাতী মহিলারা খুব চিন্তিত থাকেন তাঁদের পুত্রেরা কোনো পঞ্জাবী মেয়েকে বধূ নির্বাচন করে ফেলবে কি না, তাই নিয়ে। ওঁদের অনীহা পাঞ্জাবী মেয়েরা মুরগী ইত্যাদি আমিষ খাদ্য গ্রহন করে অভ্যস্ত, অতএব গুজরাতী পরিবারের শুদ্ধ নিরামিষাশী খাদ্যসংস্কৃতিকে দূষিত করতে পারে পাঞ্জাব-দুহিতা। এই প্রাদেশিক দ্বন...

সাম্প্রদায়িকতা: প্রকৃতপক্ষে কি? Part II

সাম্প্রদায়িকতা মন্দ কিসে? এটাই তো বুঝলাম না! এটা জানি যে 'সাম্প্রদায়িকতা', কথাটি শোনামাত্র আমাদের বেশির ভাগ মানুষের মনে একটা নেতিবাচক দ্যোতনার উন্মেষ ঘটে; যেন এটি একটি সর্বতো ও সতত বর্জনীয় বিষয়। গেল গেল রব! আপনার চিন্তাভাবনায় সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ, তার মানেই আপনি সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক, সম্প্রীতির বিরোধী! এই হল প্রচলিত ধারনা! কিন্তু তাই কি সত্যি? চলুন একবার সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞাটাকে ঝালিয়ে নিই। সাম্প্রদায়িকতা, অর্থাৎ আলাদা আলাদা মানুষকে তার সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য ও দৃষ্টিভঙ্গীর ভিত্তিতে পৃথক দৃষ্টিতে দেখা, ভাবা এবং সেই অনুযায়ী তাদের শ্রেণীবিভাগ এবং তাদের social & preferential standpoint mapping করা। কিন্তু এটা মন্দ কিসে? বরং এর দ্বারা তো প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাদের মধ্যেকার বৈচিত্র্য ও চাহিদাগুলির যথার্থ সম্মান করা যায়। একমাত্র সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলেই প্রতিটি মানুষের নিজস্বতাকে যথার্থ মান্যতা দেওয়া যায়। আর সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সব মানুষকে ঢালাও এক নিয়মে বিচার করা বা এক ছাঁচে তাঁদের ফেলতে চা...

সাম্প্রদায়িকতা: প্রকৃতপক্ষে কি?

ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতা, এই দুইটিই এখন বহুল-প্রচারিত শব্দ। ধর্ম শব্দটি এসেছে 'ধৃ' ধাতু থেকে। ধর্ম হল তাই যা মানুষকে ধারণ করে রাখে, মনুষ্যত্বের পথে। অর্থাৎ ধর্ম একটি বিশ্বাস যা মানুষকে একটি সামান্য প্রাণী মাত্র থেকে আরো বেশী চিন্তাশীল ও সংবেদনশীল করে তোলে। পৃথিবীতে বহু আলাদা আলাদা ধর্ম আছে। তাদের আচরন গুলি আলাদা আলাদা হলেও, বিশ্বাস মূলতঃ এক। ঠাকুর যেমন বলেছিলেন, "যত মত তত পথ"। বিভিন্নতা যা কিছু আছে তা আচরনগত এবং দার্শনিকতায়। অতএব মানুষের সাথে মানুষের দৈনন্দিন আদানপ্রদানে ধর্মের খুব একটা প্রাসঙ্গিকতা নেই। না থাকাটাই স্বাভাবিক। আমরা পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করি, কাজ করি, কথা বলি, মানুষ হিসেবে; ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। ধর্ম যাই হোক, দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, চাওয়া-পাওয়া, সুবিধা-অসুবিধা গুলো আমাদের সব মানুষেরই এক। বাড়ির সামনে জল জমলে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, জৈন, সকলেরই পা ভিজে যায়। কোন মুসলমান বন্ধুর বাড়িতে ঈদের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলে আমরা হিজাব বা টুপি মাথায় দিই না। শিখ বন্ধুর বাড়িতে মাথায় পাগড়ি বা দোপাট্টার ঘোমটাও টানি না। আমরা আমাদের নিজেদের পরিচয়েই...

Leftist 'imperialism' in Bengal: A Philosophical Scam

This write-up is indeed not to communicate something totally new, rather something which is well-known. However, do we ‘realize’ everything that we ‘know’? Is ‘knowledge’ & ‘realization’ the same thing? Perhaps not. ‘Knowledge’ may be futile if it doesn't yield the desired ‘realization’. We all know that Bengal has been in Left regime for long. The party followed left-wing philosophy regarding socio-economy. It is our ‘knowledge’. But do we all ‘realize’ its implications in the life of present-day Bengal? Do we realize what this leftism has left on us? The left-wing philosophy is a high-order philosophy which portrays every individual as equal in all aspects and having equal right on everything around him. If followed properly, this is the highest order of religion and the same is mentioned even in all Holy books. However, should we ask ourselves whether this high order philosophy of leftism can at all be a day-to-day political ism or not? Shouldn't a socio-po...